রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বিএনপির জন্য অপেক্ষা করবে নির্বাচন কমিশন আলীকদমে দর্শকের ওপর ক্ষেপে ফাইনাল খেলার ট্রফি ভাঙলেন ইউএনও আলীকদমে ট্রফি ভেঙ্গে ভাইরাল ইউএনও ঈদগাঁওতে অর্ণবের উদ্যোগে কোভিড প্রতিরোধে টাউন বৈঠক অনুষ্ঠিত লামায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও পরিদর্শনে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর কক্সবাজারে চারদিন ব্যাপী শেখ হাসিনা বই মেলার উদ্বোধন ঈদগাঁওতে আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  কক্সবাজারে শেখ হাসিনা বইমেলার উদ্বোধন : সম্মাননা পেলেন ঈদগাঁওর শিক্ষক খুরশীদুল জন্নাত সাফ গেমসে নারী ফুটবলারদের পাহাড়ের নারী খেলোয়াড়দের ৫০ হাজার টাকা ও সংবর্ধনার ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য মন্ত্রী সরকারি চাকরির আবেদনে ৩৯ মাস ছাড় ‘প্রচারবিমুখ এই স্কুলটি সত্যিই অন্যরকম’—বিচারপতি হাবিবুল গনি”

অন্ডকোষের কি কি সমস্যা হতে পারে?

scrotum-000002

টেস্টিস হচ্ছে পুরুষ প্রজনন অঙ্গ। এখানে স্পার্ম বা শুক্রাণু তৈরি হয় এবং এই স্পার্ম বা শুক্রাণুর সঙ্গে মেয়েদের ডিম্বাণুর মিলনের ফলে সন্তানের জন্ম হয়। এই টেস্টিসের বা অন্ডকোষের সংখ্যা দুটি। এর জন্ম পেটের ভিতর। টেস্টিসদ্বয় শিশুর মায়ের পেটে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নিচের দিকে নামতে থাকে এবং সনত্মান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বেই অন্ডকোষ (স্ক্রটাম) থলিতে অবস্থান নেয়।

টেস্টিস বা অন্ডকোষের কি কি অসুখ হতে পারে :

টেস্টিস সঠিক স্থানে না আসা, টেস্টিস অন্ডকোষ থলিতে না এসে পেটে বা অন্য কোন স্থানে নামার সময় আটকে যেতে পারে। এই ধরনের অসুখের ফলে অন্ডকোষ বা টেস্টিসের বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটে এবং প্রজনন মতা নষ্ট হয়ে যায়। আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় ঝুঁকি বেড়ে যায়। সর্বোপরি টেস্টিস বা অন্ডকোষের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

জেনে নিন বাঁকা লিঙ্গ কেন হয়? বাঁকা লিঙ্গ সোজা করার উপায়

অতএব পিতা-মাতার উচিত এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং অতি সত্বর সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া। কারণ সময়মতো চিকিত্সা করলে টেস্টিসের বা অন্ডকোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে ও ক্যান্সার হওয়া রোধ হয়।

চিকিত্সা :

পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অন্ডকোষ বা টেস্টিসের অবস্থান নির্ণয় করা অর্থাত্ টেস্টিস কোথায় আছে তা নিরূপণ করা এবং সঠিক স্থানে নামিয়ে আনাই হচ্ছে এর আসল চিকিত্সা।

টেস্টিস বা অন্ডকোষের টিউমার :

টেস্টিসের জন্মের পর যদি সঠিক জায়গায় না থাকে ঐ টেস্টিসের টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে টেস্টিসের টিউমার হতে পারে। টেস্টিসের টিউমার হলেই টেস্টিস হঠাত্ অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে। বেশির ভাগ সময়ই কোন ব্যাথা হয় না। টেস্টিসের টিউমার সাধারণত ক্যান্সার হয়ে থাকে। সময়মতো চিকিত্সা না করলে অতি দ্রুত বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং মৃত্যু অনিবার্য।

জেনে নিন লিঙ্গের আকার কি পরিবর্তন করা যায়?

অন্ডকোষের হাইড্রোসিল :

টেস্টিসের দুটি আবরণ থাকে। যদি এই দুই আবরণের মাঝে পানি জমে তাকে হাইড্রোসিল বলে। বিভিন্ন কারণে অন্ডকোষে বা টেস্টিসে পানি জমতে পারে। যেমন (ক) জন্মগত কারণ, (খ) ইনফেকশন, (গ) গোদরোগ/ ফাইলেরিয়াসিস, (ঘ) টিউমার বা ক্যান্সার ইত্যাদি।

হাইড্রোসিল হলে কি জটিলতা হতে পারে :

ক) অনেক বড় হয়ে চলাফেরায় অসুবিধা হতে পারে।

খ) দৈহিক মিলনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে।

গ) ক্যান্সারের কারণে হাইড্রোসিল হলে জীবন নাশের সম্ভাবনা থাকে।

অতএব, সঠিক চিকিত্সার জন্য সার্জনকে দেখান।

টেস্টিকুলার টরসন :

৫ বছর থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত অন্ডকোষ বা টেস্টিসের এই অসুখ হয়। এই রোগে টেস্টিস প্যাঁচ খেয়ে যায়, যার ফলে এর রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায় এবং টেস্টিসের বা অন্ডকোষের কার্যক্ষমতা হারিয়ে জড়বস্তুতে পরিণত হয়। এই রোগে টেস্টিসের হঠাত্ প্রচন্ড ব্যাথা অনুভূত হয়। দ্রুত এই রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা অতীব জরুরী। তা না হলে টেস্টিস গ্যাংগ্রিন হয়ে যায়।

অরকাইটিস বা টেস্টিসের প্রদাহ :

১৪ থেকে ২২ বছর বয়সে এই অসুখ বেশি হয় এতে টেস্টিসের ইনফেকশন হয় এবং প্রচুর ব্যাথা ও টেস্টিস ফুলে যায়। রোগীর জ্বর ও প্রস্রাবের জ্বালা-পোড়া হয়। এই রোগের অন্যতম কারণ অবৈধ যৌন সঙ্গম। সঠিক সময় চিকিত্সা না করলে টেস্টিসের কার্যমতা নষ্ট হয়ে যায়।

জেনে নিন লিঙ্গ প্রদাহের কারণ কি এবং লক্ষণ ও চিকিত্সা

ভেরী কোসিল :

অন্ডকোষের বা টেস্টিসের রক্তনালীর অস্বাভাবিক স্ফীত ও বৃদ্ধির ফলে এই অসুখ হয়। হাঁটাচলা করলে বা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে অন্ডকোষ বা টেস্টিসের উপরের রগ ফুলে উঠে এবং শুয়ে থাকলে আবার মিলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে ব্যথাও অনুভব হয়। এ রোগ হলে প্রজনন মতা হ্রাস পেতে পারে। তা ছাড়া আরও অনেক অসুখ যেমন স্পার্মাটোমমিল ও ইপিডিডাইমাল সিস্ট/টিবি ইত্যাদি অসুখ ও টেস্টিস হতে পারে।

অতএব, অন্ডকোষ বা টেস্টিসের যে কোন ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেই জরুরী ভিত্তিতে সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া অবশ্যক।

হাইড্রোসিল:

টেস্টিসের বিভিন্ন প্রকার রোগ হয়। তার মধ্যে হাইড্রোসিল একটি কমন অসুখ।

হাইড্রোসিল কি :

টেস্টিস বা অ-কোষের দুই আবরণের মাঝে পানি জমলে তাকে হাইড্রোসিল বলে। বিভিন্ন কারণে হাইড্রোসিল হতে পারে। যেমন :

০ জন্মগত হাইড্রোসিল।

০ টেস্টিসের ইনফেকশনের জন্য হতে পারে।

০ গোদরোগ বা ফাইলেরিয়াসিস।

০ টেস্টিসের টিউমার থাকলেও তার কারণে হাইড্রোসিল হতে পারে।

০ জন্মগত হাইড্রোসিল : শিশু জন্মের সময় থেকে টেস্টিসের ফোল নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। এই হাইড্রোসিলের সঙ্গে হার্নিয়াও থাকে। ধীরে ধীরে হাইড্রোসিল বড় হতে থাকে। পেটের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে বলে শুয়ে থাকলে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই হাইড্রোসিল চিকিত্সা করা অত্যন্ত জরুরী, কারণ এর সঙ্গে হার্নিয়ার সংযোগ থাকে।

ইনফেকশনের জন্য হাইড্রোসিল :

অন্ডকোষ বা টেস্টিসের ইনফেকশন হলে এটাকে ইপিডিডাইমো অরকাইটিস বলে। এই ইনফেকশন সাধারণত যৌনবাহিত রোগ। এ জন্য যুবক বয়সেই এই হাইড্রোসিল দেখা যায়। টেস্টিসে প্রচন্ড ব্যথা ও ফুলে যায়, সঙ্গে বেশ জ্বর ও ব্যাথা থাকে। অন্ডকোষে টেস্টিসে এত ব্যাথা হয় যে রোগী স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে না। সাধারণত প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া থাকে। এন্টিবায়োটিক, ব্যাথানাশক ওষুধ ও বিশ্রাম এই রোগের জন্য অত্যন্ত জরুরী। সময়মতো চিকিত্সা না হলে অন্ডকোষে টেস্টিসে ফোঁড়া হয়ে যেতে পারে।

টিউমারের জন্য হাইড্রোসিল :

এই ধরনের হাইড্রোসিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এ ধরনের হাইড্রোসিল রোগীর কোন প্রকার কষ্ট হয় না। শুধু টেস্টিসের ফোলা আর কিছু নয়।

হাইড্রোসিল হলে কি জটিলতা হতে পারে :

_ হাইড্রোসিল বড় হয়ে চলাফেরায় অসুবিধা হতে পারে।

_ দৈহিক মিলনে প্রতিবন্ধকতার/বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

_ ক্যান্সারের কারণে হাইড্রোসিল হলে জীবন বিপন্ন হতে পারে।

_ জন্মগত হাইড্রোসিলে হার্নিয়াও থাকে। সেই ক্ষেত্রে হার্নিয়ার জন্য মৃত্যুর ঝুঁকি হতে পারে।

_ ইনফেকশনের কারণে হাইড্রোসিল হলে অন্ডকোষে বা টেস্টিসে পুঁজ জমতে পারে।

_ প্রজণন মতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

অতএব, এই ধরনের সমস্যা হলেই অভিজ্ঞ সার্জনকে দেখিয়ে সঠিক চিকিত্সা নিন।

সূত্র: আপনারডক্টরডটকমডেস্ক/ডা. এম.এ হাসেম ভূঁঞা, অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ,ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল জেনারেল,লেপারোস্কোপিক, কলোরেক্টাল ও ক্যান্সার সার্জন।

https://www.facebook.com/coxview

Design BY Hostitbd.Com