Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / নারী ও শিশু / বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবি : উপকূলে ভেসে এসেছে ২০ রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর লাশ

বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবি : উপকূলে ভেসে এসেছে ২০ রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর লাশ

গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :

টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপে উপকূলীয় এলাকার বঙ্গোপসাগরে ফের রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবির ঘটনায় ২০ নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর বর্বরতা থেকে রক্ষা ও জীবন বাঁচাতে এসে গত দুইদিনে ২৪ রোহিঙ্গা নারী শিশু লাশ ভেসে এসেছে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে।

গত বুধবার রাত ১১ টার দিকে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম সৈকত এলাকায় ফের রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশু ২জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও আরও অনেক রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে। ডুবে যাওয়া নৌকাটি শাহপরীর দ্বীপ ডাঙ্গর পাড়া এলাকার নজির আহাম্মদের ছেলে শুক্কুরের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।

৩১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম সৈকত এলাকা থেকে ফের ১৮ রোহিঙ্গা নারী শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। এ বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেছে বলে জানায় স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরুল আমিন। এদের মধ্যে ১০ জন শিশু ও ৮ জন নারী রয়েছে বলে জানায়। তবে স্থানীয়রা সাগর উপকূল থেকে লাশ গুলো উদ্ধার করে কূলে তুলে রাখে। এ লাশের খবরে সাগর পাড়ে শত শত লোকজন ভীড় করতে দেখা যায়। এছাড়া গত বুধবার একই এলাকা থেকে নারী শিশু ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে লাশের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিজিবি, কোস্টর্গাড ও পুলিশের টিম ছুটে গিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। তবে এ পাচার কাজে কারা জড়িত রয়েছে তাদের খুজে বের করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে পাচারকারী চক্র অর্থের লোভে রোহিঙ্গা পাচারে মেতে উঠেছে। পাচারকারীরা অর্থের লোভ দেখিয়ে মাছ ধরার নৌকাগুলোকে ব্যবহার করে যাচ্ছেন। এ সব পাচারকারী কারা তাদের খুঁজে বের করা না হলে একের পর এক এমন ঘটনার জন্ম নিতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শাহপরীরদ্বীপের পাচার চক্র সাগরে মাছ ধরার ইঞ্চিন চালিত নৌকা ভাড়া করে রাতের আধারে মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদ্বীপ এলাকা থেকে রোহিঙ্গা বোঝাই করে নিয়ে আসা হচ্ছে। বুধবার রাতে ২০ থেকে ৩০টি নৌকা মাছ ধরার বাহানা দিয়ে রোহিঙ্গা আনতে সাগরে পাড়ি জমায়। এদের মধ্যে শাহপরীর দ্বীপ ডাঙ্গর পাড়া এলাকার শুক্কুর, আব্দুল আমিন, সব্বির ও জয়নালের মালিকাধীন নৌকাও ছিল বলে জানা গেছে। এ সব নৌকাগুলো রোহিঙ্গা বোঝাই করে আসলেও সাগরের কূলে ঢেউয়ের আঘাতে একটি নৌকা রোহিঙ্গাসহ ডুবে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পাচারকারীরা চিহ্নিত ব্যক্তি। এদের বিরুদ্ধে জরুরী ব্যবস্থা না নিয়ে এ ধরনের ঘটনা থেকে রেহায় পাবেনা রোহিঙ্গারা এমনটি জানায় স্থানীয়রা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: